সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিনব্যাপী আয়োজনে গলাচিপায় মৎস্যজীবী লীগের ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ভুয়া ও জাল কাগজপত্র দিয়ে জামিন লাভ করায় আনসার সদস্য মিজানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা হাটগাঙ্গোপাড়া মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নবাগত পুলিশ ইন্সপেক্টরকে ফুলেল শুভেচ্ছা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন জামালপুরে ভুমি সেবা সপ্তাহ-২০২২ ও এলএ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্ভোদন- রাজাপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন রাজাপুরে বিদ্যুৎ পৃষ্টহয়ে গৃহবধুর মৃত্যু শার্শার ইছামতি নদীতে পাওয়া যুবকের লাশ রাজশাহীর বাঘায় নিজবাড়িতে দাফন। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত। নাটোরের নলডাঙ্গায় ভূমি সেবা সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান প্রকল্পে প্রকৃত কৃষকদের পিআইসি কমিটিতে নির্বাচিত করুন

Coder Boss
  • সংবাদটি লিখা হয়েছে : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৮৪ জন পড়েছে

জয়নাল আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ-কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অকাল বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল সুরক্ষায় সরকার ২০১৭ সালে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে হাওরে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানীর পর হাওরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করে। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন। এ নীতিমালায় আগের চেয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অনেক ভালো হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। তবে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে এবং তাড়াহুড়োর কারণে কাজের মান বজায় রাখতে না পারলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। যা কারো কাম্য নয়।

প্রতি বছরেই বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দেখা যায় যে,হাওরে জমি নেই,প্রকৃত কৃষক নন তারাও হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)র সভাপতি, সহ-সভাপতি। এরকম সংবাদ যেন নতুন কিছুই নয়। তবে অনেকেই বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)তে।

তবে হাওরাঞ্চলের প্রকৃত কৃষকরা জানান, আমরা কৃষক। কৃষি আমাদের প্রধান উপজীবিকা। আমরা সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শক্ত হাতে লাঙল ধরে এই মাটির বুকে সোনার ফসল ফলাই। আমরাই বাংলার প্রকৃত কৃষক। আমাদের ঘাম ও রক্ত দিয়ে এই দেশের সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমরাই দেশের সব মানুষের খাদ্য উৎপাদন করায় সাহায্য করছি। নিঃস্বার্থ ভাবে দেশ ও দেশের জমির উন্নতিতে অবদান রেখে যাচ্ছি। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম সংসার চলে আমাদের। বছরে আমাদের তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় ৮টি হাওরে একবার ফসল ফলানো হয়। এই এক ফসলের উপরেই নির্ভর করে আমাদের পরিবার। বন্যার হাত থেকে ফসল সুরক্ষায় সরকার ২০১৭ সালে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা প্রণয়ন করেন। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন।কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় যে, কৃষকদের সমন্বয় ছাড়াই পিআইসির কমিটি গঠন করা হয়। তখন পিআইসির সভাপতি হন কৃষক নন ও হাওরে জমি নেই এমন ব্যক্তি। আবার বিভিন্ন দলের প্রভাব খাটিয়ে হচ্ছেন পিআইসি কমিটির সভাপতি। এদিকে বিভিন্ন দলীয় নেতারা পিআইসি কমিটিতে সভাপতি – সহ-সভাপতি দিবেন বলে শুরু করেন ব্যবসা-বাণিজ্য। এক পর্যায় দেখা যায় নেতারাই সফল। তবে এবছর আমাদের দাবী কৃষকদের সমন্বয় নিয়ে উপজেলার সবকটি হাওর ও মহালিয়া হাওরে প্রকৃত কৃষক কে হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) তে রাখা হউক।

উপজেলার মহালিয়া হাওরের প্রকৃত কৃষক(সুলেমানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা) দিলোয়ার হোসেন (সবুজ) জানান, আমি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজ করাই আমার পেশা। আমি কোনো প্রকার রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। মহালিয়া হাওরে প্রতিবছর আমি, আমার বাবা ও ভাইয়েরা মিলে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাল(প্রতি হালে ১২ কিয়ার) কৃষি জমিতে ফসল ফলাই। আমার বাবার অবশিষ্ট কৃষি জমিগুলোতে অন্যান্য কৃষকেরা ফসল ফলিয়ে থাকে। বছরে একটি ফসল করার সুযোগ আমাদের হাওরে। এই একটি ফসলেই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতি বছর আগাম বন্যা দেখা দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বন্যা প্রতিহত করতে হলে আমাদের হাওরের বাঁধ গুলো মজবুত হতে হবে। প্রথম দুই বছর আমি মহালিয়া হাওরে পিআইসি কমিটিতে ছিলাম।২০১৯ সালে বিভিন্ন নেতার দাপটে পিআইসি কমিটিতে আমাকে রাখা হয় নি। এবছর ও শুরু হয়েছে বিরোধ। অনেকেই মন্তব্য করছেন,তকে পিআইসি কমিটিতে রাখা হবে না। তবে আমার দাবী বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম না করে ও প্রকৃত কৃষকের সমন্বয় নিয়ে যেকোনো কৃষকের মাঝে পিআইসি কমিটির অনুমোদন দেওয়ার জন্য সবার সুদৃষ্টি কামনা করি। মনে রাখবেন ‘‘হাওর বাঁচলে, আমরাও বাঁচবো’’।

অন্যান্য কৃষকের সময়ের দাবী,আমরা কোনো দল বুঝি না। বিএনপি, আওয়ামীলীগ বুঝি না, আমরা বুঝি আমরা কৃষক। আমাদের হাত দিয়ে ফসল ফলাই হাওরে। সেই কষ্টের মর্ম কি বুঝবে একজন নেতা। নেতারা কি কোনো দিন জমিতে হাল-চাষ করে দেখেছেন। তাহলে আপনারা কেন কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। পিআইসি কমিটি গঠনের সময় আসলেই আপনাদের পাওয়া যায় বিভিন্ন অফিস-আদালতে । কেন আপনার এই দৌড় যাপ? প্রশ্ন করুন নিজের বিবেক কে। আপনার রাজনীতি করুন, ভালো কথা।আমরা আপনাদের বাঁধা দেবো না। আপনার দয়া করে পিআইসি কমিটি গঠনে দলীয় প্রভাব খাটানো বন্ধ করুন।আমরা চাই আমাদের ফসলের নিরাপত্তা। তাই প্রকৃত কৃষকের মাঝে পিআইসি কমিটির অনুমোদন দিন ও পিআইসি কমিটি দেওয়ার নামে বিভিন্ন দলীয় নেতাদের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হউক?

ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Agrajatra 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102