ঢাকামঙ্গলবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২০
১৬ই মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ ৩০শে জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ সোমবার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দক্ষিণ সুরমায় ডাকাত আতঙ্ক চরমে

Agrajatra 24
ডিসেম্বর ১৫, ২০২০ ৪:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়নাল আহমেদ, দক্ষিণ সুরমা থেকেঃ-সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় কয়েকদিন থেকে বেড়েছে ডাকাত দলের উৎপাত। প্রতি রাতেই উপজেলার কোথাও না কোথাও হানা দিচ্ছে ডাকাতরা। এতে চরম আতঙ্কে আছেন উপজেলাবাসী। তবে গতকাল সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ৬ জন এবং শনিবার দিবাগত (১৩ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার বলদিতে জনতার হাতে এক ডাকাত আটক হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন জনতা।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে প্রায় প্রতিরাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কোথাও না কোথাও হানা দেয় ডাকাত দল। ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে বিভিন্নজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান অথবা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। এতে বেশিরভাগ সময় ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার জনমনে চরম ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় যে কারো বাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে পুলিশ প্রশাসন সদা সতর্ক রয়েছে বলে জানালেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকা থেকে ৬ জনকে ধরে নিয়ে আসে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে দুজনকে দক্ষিণ সুরমা থানায় এবং বাকি চারজনকে বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে সোমবার গভীর রাতে আবারও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকায় ডাকাতের একটি বড় দল ঢুকেছে বলে স্থানীয় করিমপুর গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে, শনিবার দিবাগত (১৩ ডিসেম্বর) রাত ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের বলদী গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মইনুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জনতার হাতে এক ডাকাত আটক হয়। আটককৃত ডাকাত রিপন আলী (৩৩) ওসমানীনগর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে। এ ব্যাপারে পরে মইনুল ইসলাম বাদি হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ১৩, তারিখ- ১৩-১২-২০ইং।

জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গভীর রাতে মইনুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাড়ির মেইন গেইটের তালা ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করার পর ঘরের দরজা ভেঙে অস্ত্রের মুখে বাড়িতে থাকা কেয়ারটেকার ইসহাক আলীকে বেঁধে ফেলে। এ সময় ডাকাত দল ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। ঘটনার সময় ইসহাক আলী কৌশলে মােবাইল ফোনে বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বলে এলাকাবাসীকে জানান।

এ সংবাদের ভিত্তিতে মসজিদের মাইক থেকে গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে প্রচার চালানাে। সংবাদ শুনে গ্রামবাসী মইনুল ইসলামের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলে ডাকাতরা পালাতে চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসী ডাকাতদের পিছু ধাওয়া করে তেলিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হন। এসময় দক্ষিণ সুরমা থানাপুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে বাকি ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে আটক ডাকাতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা।

ডাকাতির বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতার হাসেন বলেন, ডাকাতদের উৎপাতের চাইতে আমাদের তৎপরতা বেশি। তাই ডাকাতরা ডাকাতির আগেই ধরা পড়ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকেও কড়া নজরদারীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স প্রতি রাতেই উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও স্থানে টহল দেয়।

গত রাতে ৬ ও শনিবার দিবাগত রাতে একজনের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি আখতার হাসেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।