বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজাপুরে গণহত্যা দিবস পালিত ১৭ ই মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শহড়ের কালিবাড়ীতে বিশেষ প্রার্থনা। শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শেখ হাসিনা’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন আজকে অভিষেক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে ঢাকসাস সাংবাদিক সমিতির ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন দিবস -তথ্যমন্ত্রী মেলান্দহে আভ্যন্তরীণ বোরো ধান চাল সংগ্রহ-২০২২ অভিযানের শুভ উদ্ভোদন ডিবি, নরসিংদী কর্তৃক ২০ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুরে ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে নবগঠিত কোতোয়ালি থানার সভাপতি সম্পাদক-কে বরণ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে গফরগাঁওয়ে যুবলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নৌকার বিপক্ষে নয়, মাঝির বিপক্ষে ভোটাররা!

Coder Boss
  • সংবাদটি লিখা হয়েছে : মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২০ জন পড়েছে

রাফসান সাইফ সন্ধি, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২৬ ডিসেম্বর চতুর্থধাপে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ইউনিয়নে বিএনপি সর্মথন করা একক সতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। ভোটাররা জানান নৌকা প্রতীক ভালো, কিন্তু ইউনিয়নে যাদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়া হয়েছে সেই মাঝিগুলো ভালো নয়। তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়া হয়নি। তাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং বিএনপি সর্মথন করা সতন্ত্র প্রার্থীর কাছে প্রায় ইউনিয়নেই ভরাডুবি হতে পারে নৌকার।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ঘাটাইলে ৭ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। এ পদে প্রায় সকল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলের স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ।

চেয়ারম্যান পদে যারা প্রতিদ্বন্ধী করছেন এবং
তাদের অবস্থান-
ঘাটাইল ইউনিয়ন- এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭ জন। নৌকা পেয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হায়দর আলী। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন বলেন, যাকে নৌকা দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই, তার সম্পর্ক বিএনপি’র লোকদের সঙ্গে।
ফলাফলে এই ইউনিয়নে নৌকা কত নম্বরে থাকবে তার ঠিক-ঠিকানা নেই। এখানে নৌকার বিদ্রোহী ৪ জন। একক প্রার্থী রয়েছে বিএনপি সমর্থন করা সাবেক চেয়ারম্যান
ফিরোজুর রহমান মিয়া। তবে ভোটাররা এগিয়ে রেখেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের মিজানুর রহমান হিরা ও চশমা প্রতীকের আঃ আজিজকে।

লোকেপাড়া ইউনিয়ন- চেয়ারম্যান পদে এখানে প্রার্থীর সংখ্যা হাফ ডজন। আওয়ামীলীগ মনোনিত বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরিফ হোসেন এখানে নৌকার মাঝি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন খান বলেন, নৌকার বিপক্ষে নয় মাঝির বিপক্ষে ভোটাররা। লড়াই হবে নৌকার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের। বিএনপি সমর্থন করা সাবেক চেয়ারম্যান হায়দার আলী তালুকদার একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রয়েছে চার ৪ জন।

দেওপাড়া ইউনিয়ন- এখানে সবচেয়ে বেশি ৯ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। বিএনপি সমর্থন করা কোনো প্রার্থী নেই। ৮ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। নৌকা নিয়ে মাঠে বাহাদুর আলম খান থাকলেও ভোটার বা
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি মোটরসাইকেল প্রতীকের বর্তমান চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন তালুকদার ও সাবেক চেয়ারম্যান চশমা প্রতীকে আব্দুর রাজ্জাকের দিকে। বিএনপি সমর্থন করা ভোটাররদের বেশ ভালোবাসা পাচ্ছেন
আব্দুর রাজ্জাক। দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপাতি রেজাউল কমির বাদশা জানান, প্রার্থী অনেক, সবাই মিলে কাজ না করলে নৌকা পার করা কঠিন হবে।

দিগড় ইউনিয়ন- ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনিত মো. জামাল হোসেন (নৌকা) এবং মোটরসাইকেল প্রতীকে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার। এখানেও শক্ত অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে ঘোড়া প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, আনারস প্রতীকে ফারুক হোসেন ফনি এবং বিএনপি সমর্থন করা মো. আব্দুস সাত্তারের মধ্যে লড়াই হবে, এমনটা ভাবছেন ভোটাররা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নৌকার অবস্থা খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। এখানে যোগ্য লোককে নৌকা দেওয়া হয়নি।

দিঘলকান্দি ইউনিয়ন- এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। আওয়ামীলীগের মো. ইকবাল হোসেন (নৌকা)। এখানে বিএনপি সমর্থন করা কোনো প্রার্থী না থাকলেও ভোটারদের আশংকা নৌকার পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের শহিদুল ইসলাম খান গুডু ও ঘোড়া প্রতীকের রেজাউল করিম মটু। তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.স্বপন মিয়া বললেন, নির্বাচনে বিদ্রোহীরা কোনো বিষয়ই না।

আনেহলা ইউনিয়ন- এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোট ৫ জন। আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান (নৌকা)। বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যন শফিউর রহমান মুক্তা আছেন (চশমা) প্রতীক নিয়ে।এখানেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুইজন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ শামীম বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার পাশ করা কঠিন হবে।

দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন- এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী সুজাত আলী খান (নৌকা)। স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম খান (আনারস)। শুধুমাত্র এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ভোটারদের জরিপে লড়াই হবে এই দুই প্রার্থী মধ্যে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম (লেবু) বলেন, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগ থেকে পাঠানো চিঠি পেয়েছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় দল থেকে তাদের বহিস্কারের শুপারিশ করে কাগজ পাঠানো হবে।

ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Agrajatra 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102