মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজাপুরে গণহত্যা দিবস পালিত ১৭ ই মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শহড়ের কালিবাড়ীতে বিশেষ প্রার্থনা। শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শেখ হাসিনা’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন আজকে অভিষেক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে ঢাকসাস সাংবাদিক সমিতির ১৭ মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার প্রত্যাবর্তন দিবস -তথ্যমন্ত্রী মেলান্দহে আভ্যন্তরীণ বোরো ধান চাল সংগ্রহ-২০২২ অভিযানের শুভ উদ্ভোদন ডিবি, নরসিংদী কর্তৃক ২০ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুরে ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে নবগঠিত কোতোয়ালি থানার সভাপতি সম্পাদক-কে বরণ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে গফরগাঁওয়ে যুবলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সিলেটে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে টিকরপাড়া গ্রামে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব

Coder Boss
  • সংবাদটি লিখা হয়েছে : বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১
  • ২৬৩ জন পড়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ-সিলেটের শাহপরান থানাধীন ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের অর্ন্তভূক্ত টিকরপাড়া গ্রামে সরকারি পাহাড়ি টিলা (পাতকী টিলা) নামক স্থানে অবাধে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেয়াল নির্মাণের কথা বলে ১০০-৮০ ফুট উঁচু টিলা কেটে মাটির শ্রেণি পরিবর্তন করে সমতল করছেন টিকরপাড়া গ্রামের মৃত.জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে দখল মালিক নাজমুল ইসলাম মুকুল। আর পাহাড় ও টিলা কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নিচু জমি।

অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটার কাজ শুরুর আগে সেখানে অনেক গাছগাছালি ও অনেক উঁচু টিলা ছিলো। সেগুলো প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর টিলার মাটি কেটে সেখানে এলোপাতাড়ি দেয়াল নির্মানের কাজ শুরু করেন। দেয়াল নির্মাণের কাজ কিন্তু এখন প্রায় শেষের দিকে। প্রকাশ্যদিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় ওই সরকারি পাহাড়ি টিলায় শুরু হয় মাটি কাটা ও নির্মান কাজ।
এদিকে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও স্থানী থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এই ঘটনার সত্যতা জানার জন্য জনৈক সাংবাদিকের একটি টিম ঘটনা স্থলে পৌঁছালে, টিলা খেকো নাজমুল ইসলাম মুকুল কে পাওয়া যায় নি তবে প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েকজন লোক কে টিলা কাটাতে দেখা যায় এবং ওদের কাছে ওই টিলা কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ওরা জানায় যে, এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না আপনারা এই জায়গায় দখল মালিক নাজমুল ইসলাম মুকুলের সাথে কথা বলেন।

এ বিষয়ে দখল মালিক টিলা খেকো নাজমুল ইসলাম মুকুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায়, এই জায়গা তার সে যা ভালো লাগবে করবে আর টিলা কাটতে সে কারো কোন অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। উল্টো সে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে,এখানে তোমরা কেন গিয়েছো? সাংবাদিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে, সে পরিবেশে কাছ থেকে অনুমতি নেয় নি তবে সে যার চাকরি করে তার পরিবেশের অনুমতি নিতে ওয়ান-টুর বিষয়।সে না কি বাংলাদেশের এমপি,মন্ত্রী ও বড় বড় আমলাদের পিছনে পিছেনে গুরে তাই সে সাংবাদিকদের দেখে নিবে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলায় জেলের ভাত খাওয়ানো সহ প্রাণ-নাশের হুমকি প্রধান করে। যার উপযুক্ত ডকুমেন্টস সাংবাদিকদের কাছে আছে। তার খুঁটির জোর কোথায়? কিসের দাপটে সে প্রশাসনকে পরোয়া না করে এরকম এহেন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে?

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুকুল প্রায় দুই বছর আগে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে লেগুনা চালাতো। পরে সে ঢাকায় চলে যায় আর সেখানে সে কোন মন্ত্রীর গাড়ি চালায়। তবে টিলা খেকো মুকুল রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নাম্বর ওয়ার্ডের বহিস্কৃত কাউন্সিলর ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিমের ড্রাইবার বলে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। যার কারণে ভয়ে এলাকার সচেতন মহল প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনিচ্ছুক।

এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আব্দুল মছব্বিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ঐ ওয়ার্ডের ইউ/পি সদস্য ঠিক তবে এই বিষয়টা আইনের বিষয় আপনারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিন আমার যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন তা আমি করবো।

এ বিষয়ে শাহপরান (র.) থানার অন্তর্ভুক্ত সুরমাগেইট তদন্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ সারোয়ার হোসেন ভূইয়া সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এটা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিষয়, এখানে উনারা কি করবেন। তাছাড়া ওদের ধরে নিয়ে আসলে কি লাভ হবে, সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর উনারা আসেন না। অন্য টিলা কাটার বিষয় নিয়ে বার বার সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে এখন উনারা এসব বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারপরও যদি প্রকাশ্য দিবালোকে টিলা কাটা হচ্ছে এমন তথ্য পেলে উনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, প্রকাশ্য দিবালোকে টিলা কাটা হচ্ছে উনাকে জনৈক সাংবাদিকরা তথ্য দিলে উনি দেখবো দেখছি বলে কাল-যাপন করছেন।

এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি টিলাটি পরিদর্শন করেন। উনার উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই পালিয়ে যায়। তাই সরজমিনে কাউকে না পাওয়াতে ও টিলার দখল মালিক নাজমুল ইসলাম মুকুল ঢাকায় থাকার কারণে উনি উপস্থিত সময়ে কাউকে জেল-জরিমানা করতে পারেন নি।তবে এই বিষয় তিনি সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর টিলা কাটার বিষয় নিশ্চিত করে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত একটি নোটিশ পাঠিয়ে দিবেন।

এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন সাক্ষাতে জানান, এই বিষয় তিনি ১৭২ স্মারক নাম্বারে নাজমুল ইসলাম মুকুলকে একটি নোটিশ করেছিলেন ও হেয়ারিং তারিখ ছিলো ৫ জানুয়ারি। কিন্তু উক্ত তারিখে নাজমুল ইসলাম মুকুল উনাদের নির্দেশ অমান্য করে অনুপস্থিত থাকায় তাকে কোন প্রকার জেল-জরিমানা করা যায় নি। তবে সরকারি নিয়ম-অনুসারে তাকে ২য় ধাপে উক্ত স্মারকে আবার আরকেটি নোটিশ করা হবে ও হেয়ারিং তারিখ আগামী ২০ জানুয়ারি। কিন্তু যদি উক্ত তারিখেও সে উনাদের নির্দেশ অমান্য করে অনুপস্থিত থাকে তাহলে রীতিমতো তার বিরুদ্ধে  সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উনার বাধ্য থাকবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তাই স্থানীয়, সচেতন মহল সরকারি পাহাড়ি টিলা কাটা ও টিলা খেকো নাজমুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Agrajatra 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102